সৌরভ গ্রামের একজন মেধাবী অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যায় সে পড়াশোনা করত, পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খেত, আর তাদের মাটির বাড়িতে নিজের বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ত।
তখন বর্ষাকাল — ঝোপঝাড় ঘন হয়ে গিয়েছিল আর ইঁদুরের সংখ্যাও বেড়ে গিয়েছিল। এক রাতে একটি কেউটে সাপ খাবারের খোঁজে বাড়িতে ঢুকে পড়ে, আর ঘুমন্ত সৌরভের কাছে চলে আসে। হঠাৎ সে সৌরভকে কামড়ে দেয়।
আশ্চর্যের বিষয় হলো — সৌরভ প্রায় কোনো ব্যথাই অনুভব করেনি। সে ভেবেছিল হয়তো কোনো পোকা কামড়েছে, আর আবার ঘুমিয়ে পড়ে।
বিপদের লক্ষণ দেখা দিল
ভোরের দিকে তার কথা জড়িয়ে যেতে শুরু করে। চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে। হাত-পায়ের শক্তি কমে যায়। শ্বাস নিতেও কষ্ট হতে থাকে। পরিবার প্রথমে ভেবেছিল সে হয়তো সাধারণ অসুস্থ — তারা গ্রামের ওঝাকে ডেকে আনে। মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়।
যখন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলো, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ডাক্তারদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও সৌরভকে বাঁচানো যায়নি। পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়।
ডাক্তারের সচেতনতা শিবির
কয়েকদিন পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একজন ডাক্তার গ্রামের স্কুলে এসে সবাইকে বোঝালেন:
"কেউটে সাপের কামড়ে প্রায়ই ব্যথা হয় না। তাই মানুষ বুঝতে পারে না। কিন্তু এটি অত্যন্ত বিষাক্ত। চোখের পাতা ঝুলে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, গিলতে কষ্ট হওয়া, বা শ্বাসকষ্ট — এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে কোনো দেরি না করে সরাসরি হাসপাতালে যান। ওঝা বা কবিরাজের কাছে সময় নষ্ট করলে প্রাণ যেতে পারে।"
⚠️ বিপদের লক্ষণ — এখনই হাসপাতালে যান
মূল কথা
কেউটে সাপের কামড়ে প্রায়ই ব্যথা হয় না — শুধু ব্যথা নেই বলে লক্ষণকে অবহেলা করবেন না।
সাপে কাটলে যত দ্রুত সম্ভব কাছের হাসপাতালে যান। সময়মতো অ্যান্টিভেনম ও চিকিৎসা পেলে প্রাণ বাঁচে।
ওঝা, কবিরাজ বা ঘরোয়া টোটকায় মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন না। ক্ষতস্থান কাটবেন না, বিষ চুষে বের করবেন না, শক্ত করে বাঁধবেন না।
রাতে মশারি ব্যবহার করুন, ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখুন, আর ইঁদুরের উপদ্রব কমান — এতে সাপ ঘরে ঢোকার আশঙ্কা কমে।
সচেতনতা আর দ্রুত চিকিৎসাই সাপে কাটার মৃত্যু ঠেকানোর সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।