🏠

আমার কি খিদে পায় না?

সাদা থান-পরা এক ছোট্ট মেয়ের প্রশ্নে নড়ে উঠেছিল গোটা সমাজ

জ্যোৎস্নার প্রতিকৃতি — বিধবার জীবন থেকে নতুন জীবনে উত্তরণের প্রতীক

সূচনা

উনিশ শতকের বাংলায় সমাজ বদলের হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। একদিকে নতুন শিক্ষার আলো, অন্যদিকে বহু পুরোনো সংস্কার তখনও মানুষের জীবনকে শক্ত করে বেঁধে রেখেছে। বিশেষ করে বিধবা নারীদের জীবন ছিল নানা সামাজিক বিধিনিষেধে আবদ্ধ। এই গল্প সেই সময়ের পটভূমিতে নির্মিত একটি কল্পকাহিনি। জ্যোৎস্না—একটি ছোট্ট মেয়ে। খুব অল্প বয়সেই বিধবা হয়েছে। তার কাছে তখনও বিধবা হওয়ার অর্থ বোঝার মতো বয়স আসেনি; সে শুধু জানে, অন্যরা যখন খায়, তখন তাকে কেন না খেয়ে থাকতে হয়, সে বুঝতে পারে না। একদিন একাদশীর দুপুরে তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে একটি সরল প্রশ্ন— "আমার কি খিদে পায় না?" একটি শিশুর এই প্রশ্নই বদলে দেয় তার দাদার ভাবনা, নাড়িয়ে দেয় একটি পরিবারের বিশ্বাস, আর ধীরে ধীরে তাকে পৌঁছে দেয় এমন এক ভবিষ্যতের দিকে—যেখানে তার জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত অন্য কেউ নয়, সে নিজেই নেবে। এ গল্প তাই শুধু জ্যোৎস্নার নয়। এ গল্প ক্ষুধার বিরুদ্ধে মানবিকতার, সংস্কারের বিরুদ্ধে বিবেকের, এবং একটি মেয়ের নিজের জীবন ফিরে পাওয়ার গল্প।